রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা শহরের শহীদ মিনারের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
রংপুরের বদরগঞ্জে ভাড়াটিয়া ও দোকান মালিকের দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপির দুই গ্রুপের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে সাংবাদিকসহ অন্তত ২০ জন আহত হয়েছেন। শনিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা শহরের শহীদ মিনারের সামনে এই সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে।
এই সংঘর্ষের ঘটনায় ৭ জন গুরুতর আহত হন। তাদেরকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এদের মধ্যে ৩ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
গুরুতর আহতরা হলেন- বদরগঞ্জ উপজেলার রাজারামপুর গ্রামের লাভলু মিয়া (৫০), কালুপাড়া ইউনিয়নের বৈরামপুর গ্রামের বৈরামপুর গ্রামের মোক্তারুল (৪৫), পাঠানপাড়া গ্রামের মুন্নাফ (৫০) লোহানীপাড়া ইউনিয়নের শফিকুল ইসলাম (৪৫) একই ইউনিয়নের ময়নাল হোসেন (২৫)।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, পৌর শহরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার সংলগ্ন ঢেউটিন ব্যবসায়ী জাহিদুল হক জোয়ারদার একই এলাকার ইশতিয়াক বাবুর দোকান ঘর ভাড়া নেন। এই দোকান ঘর ভাড়া নেওয়াকে কেন্দ্র করে দোকান মালিক ও ভাড়াটিয়ার মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়। জাহিদুল হক কালুপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান শহিদুল হক মানিকের কাছে বিষয়টি সমাধানের জন্য অনুরোধ করেন। একই ঘটনায় ইশতিয়াক বাবু বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির অন্যতম নেতা ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকারের কাছে আশ্রয় নেন। এই ঘটনার জেরে মোহাম্মদ আলী সরকার ও শহিদুল হক মানিকের মধ্যে দ্বন্দ্বের সৃষ্টি হয়।
শনিবার সকাল থেকে দুইপক্ষ দেশীয় অস্ত্র লাঠি-সোটা, ছোরা, বল্লম তীর ধনুক নিয়ে একে অপরকে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়া দেয়। এর এক পর্যায়ে শহীদুল হক মানিকের লোকজন মোহাম্মদ আলী সরকারের লোকজনের ওপর হামলা করে। এতে ৭ জন গুরুতর আহত হন।
এর আগে জাহিদুল হক জোয়ারদার দোকান খুলে দেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভার আয়োজন করে। পরে মোহাম্মদ আলী সরকারের লোকজন তা ভেস্তে দেন। এতে দুইপক্ষের মধ্যে উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পায়।
এদিকে শনিবার ধাওয়া, পাল্টা ধাওয়ায় মোহাম্মদ আলী সরকারের ৭ জন কর্মীসহ এক পথচারী গুরুত্বর আহত হন। তাদের মধ্যে পাঁচজনকে মুমূর্ষু অবস্থায় রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। এদিন দুপুর ২টার দিকে সেনাবাহিনী এবং পুলিশ পৌর শহরে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামাল দিতে মাঠে নামেন।
এ ঘটনায় বদরগঞ্জ থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম আতিকুর রহমান বলেন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে শহরে পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। আমাদের সহায়তা করছেন সেনাবাহিনীর সদস্যরা। এঘটনায় কোনো পক্ষ থেকে এখনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
এদিকে এ ঘটনায় বদরগঞ্জ উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও সাবেক এমপি মোহাম্মদ আলী সরকার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক শহিদুল ইসলাম মানিক এবং সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক হুমায়ুন কবির মানিককে কারণ দর্শানোর নোটিস দিয়েছে রংপুর জেলা বিএনপি। তাদের বিরুদ্ধে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটানোর অভিযোগ আনা হয়েছে। আগামী ৩ দিনের মধ্যে জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম ও সদস্য সচিব আনিছুর রহমান লাকুর নিকট নোটিসের জবাব দিতে বলা হয়েছে।