English

29 C
Dhaka
রবিবার, এপ্রিল ৬, ২০২৫
- Advertisement -

অটোরিকশায় ফেলে যাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণ ফেরত দিলেন চালক

- Advertisements -

সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ফেলে যাওয়া ১৮ ভরি স্বর্ণের গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকা ফেরত দিয়ে সততার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন খায়রুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার রাতে বগুড়া সদর থানায় ১৮ ভরি স্বর্ণের গহনা ও নগদ টাকা এর মালিকের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

খায়রুল ইসলাম বগুড়া সরকারি শাহসুলতান কলেজের ব্যবস্থাপনা বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্র। সংসারে অভাব-অনটনের কারণে লেখাপড়ার পাশাপাশি সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালান খায়রুল ইসলাম।

পাবনার ফরিদপুর উপজেলার গোপালনগর গ্রামের স্বর্ণ ব্যবসায়ী শাহিন হোসেন বলেন, গত ২৯ মার্চ ব্যবসার কাজে তিনি বগুড়ায় আসেন। বগুড়ায় ১৮ ভরি স্বর্ণের গহনা কেনেন এবং সেই স্বর্ণের গহনা ও নগদ ১৫ হাজার টাকা একটি কালো ব্যাগে ভরে বগুড়া শহরের সাতমাথা এলাকা থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় ওঠেন।

বনানী এলাকায় পৌঁছে নগরবাড়িগামী বাস দেখে দ্রুত নেমে বাসে ওঠেন। বাসটি শাজাহানপুর এলাকায় পৌঁছালে তিনি বুঝতে পারেন স্বর্ণের গহনা রাখা কালো ব্যাগটি তার হাতে নেই।

অটোরিকশাচালক খায়রুল ইসলাম বলেন, ইফতারের সময় শহরতলীর বেতগাড়ি এলাকায় বাড়িতে পৌঁছেন। ইফতারের পর তিনি দেখতে পারেন অটোরিকশার সিটের পেছনে একটি কালো ব্যাগ। পরে ব্যাগ খুলে ভেতরে গহনা ও নগদ টাকা দেখতে পান। পরে তার মায়ের সঙ্গে পরামর্শ করে ব্যাগের মালিকের খোঁজ করতে থাকেন। গত কয়েকদিন ধরে খোঁজ করে না পেয়ে শুক্রবার বিকেলে খায়রুল তার বিশ্বস্ত ট্রাফিক পুলিশ সার্জেন্ট আলমগীর হোসেনকে জানান।

তিনি বলেন, পরে সার্জেন্ট আলমগীর হোসেন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে অটোরিকশাচালক খায়রুল ইসলামকে স্বর্ণের গহনাসহ বগুড়া সদর থানায় নিয়ে যান। পরে সদর থানা-পুলিশ ব্যাগে থাকা একটি কাগজে লেখা ফোন নম্বরের সূত্র ধরে ব্যবসায়ী শাহিন হোসেনকে সংবাদ দেন।

সংবাদ পেয়ে রাতেই শাহিন হোসেন বগুড়া সদর থানায় আসেন। পরে গহনা ক্রয় রশিদ যাচাই বাছাই করে শাহিন হোসেনকে স্বর্ণের গহনা এবং টাকা বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

স্বর্ণের গহনাসহ ব্যাগ ফিরে পেয়ে আবেগাপ্লুত শাহিন হোসেন বলেন, ‘আমি স্বর্ণের দোকানের কর্মচারী ছিলাম। গ্রাহকের বিশ্বস্ততায় ও তাদের সহযোগিতায় কিছুদিন আগে গোপালনগর বাজারে নিজেই দোকান দিই। বিভিন্ন গ্রাহকদের গহনার অর্ডার নিয়ে বগুড়ায় স্বর্ণ কিনে গহনা তৈরি করে সরবরাহ করে থাকি।

ব্যাগ হারিয়ে ভেবেছিলাম সব হারিয়ে ফেলেছি। ব্যাগে ২৬ লাখ টাকার গহনা ছিল। ব্যাগ ফিরে না পেলে আমি নিঃস্ব হয়ে যেতাম। অটোরিকশাচালক খায়রুলের সততা আমাকে স্তব্ধ করে দিয়েছে।’

বগুড়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এস এম মঈনুদ্দীন বলেন, ‘খায়রুলের মতো শিক্ষার্থীরা সমাজের জন্য আশার আলো। তিনি শুধু সৎ নন, দায়িত্বশীল ও মানবিকও।’

Notify of
guest
0 মন্তব্য
সবচেয়ে পুরাতন
সবচেয়ে নতুন Most Voted
Inline Feedbacks
View all comments
Advertisements
সর্বশেষ
- Advertisements -
এ বিভাগে আরো দেখুন