সপ্তাহের পর সপ্তাহ ধরে ব্রিটিনের একটি গ্রামে আতঙ্ক ছড়িয়ে রেখেছিল একটি বাজপাখি। সময়ে অসময়ে হানা দেওয়া, মাথায় আঘাত করা, মানুষদের তাড়া করা – এগুলো ছিল নিয়মিত কাজ। এমনকি কিছু স্থানীয় বাসিন্দা পাখিটির আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করতে হেলমেট পরার আশ্রয় নিয়েছিলেন।
শুক্রবার (৪ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে সিএনএন জানিয়েছে, বাজপাখিটি অবশেষে গতকাল বৃহস্পতিবার ধরা পড়েছে। পাখিটি অন্তত প্রায় ৫০টি আক্রমণের ঘটনা ঘটিয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, গ্রামের একজন ৭৫ বছর বয়সী ব্যক্তি বাজপাখিটির আক্রমণে হাসপাতালে ভর্তি হন। ৯১ বছর বয়সী একজন ব্যক্তির মাথা থেকে দুটি পশমী টুপিও নিয়ে গেছে পাখিটি।
স্থানীয় বাসিন্দা অ্যালান গ্রিনহালঘ ‘হ্যারিসের বাজপাখি’ বা ‘উপসাগরীয় বাজপাখি’ হিসেবে পরিচিত এই পুরুষজাত পাখিটিকে খাঁচায় আটকাতে রাখতে সক্ষম হন। তার আগে দুটি বাজপাখি এটিকে সাহায্যের জন্য ছুটে আসে।
সিএনএন জানিয়েছে, গ্রামটি লন্ডন থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তরে অবস্থিত। পাখিটিকে ধরতে অ্যালান সেখানে পৌঁছানোর পর দেখতে পেলেন, একটি চিমনির পাত্র থেকে উড়ে এসে রাস্তার ওপারে একজন লোককে তাড়া করছে…তার মাথায় আঘাত করার চেষ্টা করছে।
তিনি বলছিলেন, ‘আমি ভাবলাম ওহ, তুমি ভয়ঙ্কর ছোট্ট পাখি।’ তারপর পাখিটি একজন আমাজন ড্রাইভারের সঙ্গেও এমনটা করলো। আর আমি বললাম, ‘ওহ আমার স্রষ্টা।’
প্রতিবেদনে বলা হয়, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ফ্ল্যামস্টেড গ্রামটিতে এই ধরণের বিশৃঙ্খল দৃশ্য সাধারণ হয়ে উঠেছিল। কিছু স্থানীয় বাসিন্দা আক্রমণ থেকে নিজেদের রক্ষা করার জন্য হেলমেট পরার আশ্রয় নিয়েছেন।
ব্রিটেনের পিএ মিডিয়া অনুসারে, দুইবার আক্রমণের শিকার হওয়ার পরও একজন যখন দৌড়াতে বের হন, তখন তিনি হেলমেট পরা শুরু করেন। তিনি বলছিলে, তিনি তার দুই সন্তানকে কয়েক সপ্তাহ ধরে বাড়ির উঠোনে বের হতে দেননি।
এদিকে, ৯১ বছর বয়সী বাসিন্দা গ্লিন প্যারির দুটি পশমী টুপি নিয়ে যাওয়ার পর, মাথায় টুপি পড়ার সময় সেটি তিনি ফিতা দিয়ে বেঁধে রাখেন। তিনি বিবিসিকে বলেন, ‘এটি খুবই অস্বাভাবিক ছিল, আমি ভেবেছিলাম এটি আর কখনো ঘটবে না, কিন্তু তা ঘটেছিল।’
বৃহস্পতিবার বাজপাখিটির রাজত্বের অবসানের বর্ণনা দিয়ে সিএনএন বলছে, পাখিটি যখন স্থানীয় একটি বাগানে প্রবেশ করে, যেখানে গ্রিনহালঘ প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এটিকে একটি ফাঁদে ফেলার চেষ্টা করেন।
পাখিটি এর আগে কারও শিকারি ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এটিকে এখন একটি বিশেষায়িত পক্ষীশালায় রাখা হয়েছে এবং পুনরায় প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে।
ব্রিটেনের পিএ মিডিয়া সংবাদ সংস্থা অনুসারে, বাজপাখির আঘাতের জন্য হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ৭৫ বছর বয়সী জিম হিউইট বলেছেন, এটি ধরা পড়ায় তিনি স্বস্তি পেয়েছেন। তিনি বলেন, আমি স্বস্তি পেয়েছি যে এটি ধরা পড়েছে এবং তাকে হত্যা বা গুলি করতে হয়নি। আমি আরও বেশি স্বস্তি পেয়েছি যে, একটি শিশুও আর আহত হবে না।
পাখির শিকারি গ্রিনহালঘ বলছিলেন, লম্বা ও টাক পুরুষরা আক্রমণের সবচেয়ে ঘন ঘন লক্ষ্যবস্তু ছিল। পাখিটি প্রজনন মৌসুমে একজন সঙ্গী খুঁজছে। এই বাজপাখিটিকে সম্ভবত একজন লম্বা ও টাকওয়ালা মানুষ লালিত-পালিত করেছে। এরা সম্পূর্ণরূপে মানবিক, তাই এরা মনে করে, সেও একজন মানুষ, সে মনে করে না যে সে একটি বাজপাখি।