নাসিম রুমি: ‘রেল লাইনের ঐ বস্তিতে / জন্মেছিল একটি ছেলে / মা তার কাঁদে / ছেলেটি মরে গেছে / হায় আমার বাংলাদেশ…’
আজম খানের গাওয়া এই ‘বাংলাদেশ’ গানটি সম্ভবত দেশকে নিয়ে গাওয়া বাংলা ব্যান্ড সঙ্গীতের সবচেয়ে জনপ্রিয় গান। কেউ বলেন গুরু আজম খান, কেউ বলেন পপ সম্রাট। কিন্তু আমরা বলতে চাই পপ নয়, রক সম্রাট আজম খান। যে সময়টায় মিডিয়া তাকে ভুল করে পপ সম্রাট বলা শুরু করে, সে সময়টায় সম্ভবত ‘রক’ শব্দটা এদেশের মানুষের কাছে ছিল অজানা।
সেই সময়ের প্রেক্ষাপটে মেইনস্ট্রিমের বাইরের সব গানকেই তখন পপ গান বলেই গন্য করা হতো। তখনো ব্যান্ড অথবা রক কালচার শব্দগুলোর সাথে এদেশের মানুষ খুব একটা পরিচয় ছিল না।
বিশ্বসঙ্গীতে তখন রবার্ট প্ল্যান্ট, জর্জ হ্যারিসন, ডিও, ওজি অসবোর্ন, জন ফোগার্টি, ফ্রেডি মার্কারিরা রক স্টার হিসেবে পৃথিবী কাঁপাচ্ছেন। কিন্তু বাংলায়ও যে রক গান করা সম্ভব, তা আজম খানই প্রথম শুনিয়েছেন।
‘জীবনে কিছু পাবো না’ (ফ্রাস্টেশন নাই), ‘যে দিন চলে গেছে’ কিংবা ‘আসি আসি বলে তুমি’ গানগুলোর প্রতিটিই পিওর রক।
এই গুণী মানুষটির হাত ধরেই পরবর্তীতে বাংলা রক সঙ্গীতের যাত্রা শুরু হয়। তার একেকটি গান যেন একেকটি ইতিহাস- সময়ের কণ্ঠস্বর। আজম খান সত্যিকার অর্থেই বাংলাদেশের মাস্টার অব রক।
আজম খানের জন্মদিনে দীর্ঘদিনের সাথী বিশিষ্ট সঙ্গীতজ্ঞ কাজী হাবলু বলেন, ‘আজম খান আমার বন্ধু ও সহকর্মী ছিলেন। বাংলাদেশে তার শূন্যস্থান কখনই পুরণ হবার নয়।
সঙ্গীতশিল্পী তপু বলেন, ‘গুরু আজম খান তার গান দিয়ে আমাদের মাঝে বেঁচে থাকবেন সারাজীবন। আজম খানের জন্ম হয়, মৃত্যু নেই!’
একজন মুক্তিযোদ্ধা, একজন আজম খানের কর্ম ও জীবনদর্শন নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা দরকার বলে মনে করি আমরা।
তার জন্য প্রয়োজনে বাংলাদেশে আজম খান ফাউন্ডেশন, আজম খান অ্যাওয়ার্ড প্রবর্তন, আজম খান রিসার্চ সেন্টার শুরু করা উচিত। এর জন্য দেশের শিল্পাঙ্গনের সর্বস্তরের শিল্পীদেরই উদ্যোগ নিতে হবে।
আর যেদিন বাংলাদেশের রক সঙ্গীতে একুশে পদক প্রদান করা হবে, তা যেন আজম খানকে দিয়েই শুরু হয়। মহান এই শিল্পীর আজ জন্মদিন।