ঈদের আগে থেকেই প্রচারণায় ঝড় তুলেছিল সালমান খানের নতুন সিনেমা ‘সিকান্দার’। তবে মুক্তির পর থেকেই একের পর এক বিতর্কে জড়িয়েছে সিনেমাটি। পরিচালক এ. আর. মুরুগাদোসের বিরুদ্ধে সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়ানোর অভিযোগ এনেছেন মুম্বাইয়ের এক মুসলিম সমাজকর্মী। এর জেরে ভারতের বিভিন্ন শহরে ছবিটির বয়কটের ডাক দেওয়া হয়, যার প্রভাব পড়েছে বক্স অফিসেও।
বক্স অফিসে ধাক্কা, আয় কম, শো বাতিল
গত ৩০ মার্চ মুক্তি পেয়েছে ‘সিকান্দার’। মুক্তির প্রথম দিন ২৬ কোটি টাকা আয় করে ছবিটি। দ্বিতীয় দিন, অর্থাৎ ঈদের দিনে আয়ের পরিমাণ বেড়ে হয় ২৯ কোটি টাকা। তবে এরপর থেকেই ক্রমশ কমতে থাকে আয়। তৃতীয় দিন ‘সিকান্দার’ মাত্র ১৯ কোটি ৫০ লাখ টাকার ব্যবসা করে, চতুর্থ দিনে তা নেমে আসে ৯ কোটি ৭৫ লাখ টাকায়।
সাচনিল্কের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চার দিনের শেষে ভারতের বাজারে ছবির মোট আয় দাঁড়িয়েছে ৮৪ কোটি ২৫ লাখ টাকা। অন্যদিকে, নির্মাতাদের দাবি অনুযায়ী এই আয় ১০২ কোটি টাকা। বিশ্বজুড়ে আয়ের হিসেবেও রয়েছে এই পার্থক্য। নির্মাতারা যেখানে দাবি করছেন ১৪১ কোটি ১৫ লাখ টাকা, সেখানে ট্রেড অ্যানালিস্টদের মতে এই পরিমাণ ১২৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা।
বিতর্কের জেরে শো কমানো ও বয়কটের ডাক
‘সিকান্দার’ সিনেমা বয়কটের ডাক দিয়েছেন মুম্বাইয়ের জনপ্রিয় মুসলিম সমাজকর্মী শেখ ফায়াজ আলম। তার দাবি, ছবিটি ‘ইসলামোফোবিক’ এবং এটি সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ছড়াচ্ছে। তিনি দর্শকদের আহ্বান জানিয়েছেন, ‘সিকান্দার’ না দেখে সেই অর্থ গাজার ত্রাণ তহবিলে বা মুসলিম সম্প্রদায়ের শিক্ষা ও উন্নয়নে ব্যয় করতে।
এই বিতর্কের ফলে ভারতের বেশ কিছু শহরে সিনেমার শো ৩২ শতাংশ কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। পরে তা আরও কমে ৫০ শতাংশে নেমে আসে।
ইন্ডাস্ট্রির পাশে না থাকার ক্ষোভ সালমানের
এই বিতর্ক ও বক্স অফিসের ধাক্কার মধ্যে সালমান খান জানিয়েছেন তার ক্ষোভ ও অভিমান। তিনি বলেন, ‘ইন্ডাস্ট্রি আমার পাশে দাঁড়ায়নি, আমার ছবির প্রচারে কেউ সাহায্য করেনি।’ তিনি আরও বলেন, ‘সকলেরই সাহায্যের প্রয়োজন হয়, এমনকী আমারও।’
সালমান খানকে সাধারণত ইন্ডাস্ট্রির অনেককেই প্রচারে সাহায্য করতে দেখা যায়। তিনি নিজে মোহনলালের ‘এল ২: এমপুরান’ ও সানি দেওলের ‘জাট’ ছবির জন্য শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। কিন্তু ‘সিকান্দার’-এর ক্ষেত্রে কোনো বলিউড তারকাকে প্রচারে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি।
সামনের দিনগুলোতে কি ঘুরে দাঁড়াতে পারবে ‘সিকান্দার’?
এত বিতর্ক, আয় কমে যাওয়া এবং ইন্ডাস্ট্রির দূরত্ব— সব মিলিয়ে ‘সিকান্দার’ ছবির ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত। তবে সালমানের অনেক সিনেমাই প্রথমদিকে ধাক্কা খাওয়ার পর ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন দেখার বিষয়, ভাইজান কি পারবেন তার পুরনো ফর্মে ফিরতে? নাকি ‘সিকান্দার’ও হবে আরেকটি ফ্লপ সিনেমা?