এমন অভিযোগও আছে যে রাজনৈতিক সরকারগুলো বাস্তবভিত্তিক প্রকল্প প্রণয়নের পরিবর্তে রাজনৈতিক প্রকল্প হাতে নেয়। আর এসব প্রকল্পের কাজ দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা রাজনৈতিক চাপও থাকে। এ কারণেও প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়া ঝুলে যায়।
অতীতে দেখা গেছে, এডিপি বাস্তবায়নের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ না হলেও বড় আকারের এডিপি নেওয়া হয়েছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে দেখা গেছে, সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কোনো প্রকল্প বাস্তবায়ন করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, কিন্তু ওই প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। অনেক সময় সরকার ও প্রশাসনের মধ্যে সমন্বয়হীনতার কারণেও এডিপি বাস্তবায়ন দুরূহ হয়ে পড়ে।
প্রকাশিত খবরে বলা হয়েছে, অর্থসংকটে ব্যয় সংকোচন করছে সরকার। আগস্টে পটপরিবর্তনের পর বেশির ভাগ অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পে ব্যয় কমিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল।সংশোধিত উন্নয়ন কর্মসূচিতে এবার ৪৯ হাজার কোটি টাকা ব্যয় কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে পরিকল্পনা কমিশন।
চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মোট বরাদ্দের তুলনায় ১৮ শতাংশ কমেছে। পরিকল্পনা কমিশন সূত্র জানিয়েছে, গত ৭ জানুয়ারি অর্থ মন্ত্রণালয় এডিপির আকার দুই লাখ ১৬ হাজার টাকা নির্ধারণ করে চিঠি দিয়েছে। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন দুই লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকা আর বিদেশি ঋণ ৮১ হাজার কোটি টাকা।
চলতি অর্থবছরের এডিপি থেকে সরকার বড় ধরনের কাটছাঁট করতে চায়, তারই প্রভাব এডিপি বাস্তবায়নে পড়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।অর্থনীতিবিদরা বলছেন, দেশের অর্থনীতি সংকটের মধ্যে আছে। রাজস্ব আদায়ে বড় ঘাটতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। ফলে সরকারকে ব্যয় আরো কমাতে হবে।
চলতি অর্থবছরের বাজেটে অপচয়মূলক ব্যয় কমানোর অনেক সুযোগও রয়েছে। বিশেষজ্ঞরাও বলছেন, সরকার আর্থিক সংকটে আছে, রাজস্ব আদায়ে ঘাটতি রয়েছে, তাই ব্যয় কমাতেই হবে। ব্যয় কমানোর বড় জায়গা এডিপি। কাজেই রাজনৈতিক বা প্রশ্নবিদ্ধ প্রকল্পগুলো পুনরায় বিবেচনা করা উচিত। প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় বরাদ্দ দিতে হবে। যেসব মেগাপ্রকল্পের অগ্রগতি ভালো, সেগুলো শেষ করা ভালো হবে।
স্বচ্ছতা-জবাবদিহি-দায়বদ্ধতার পাশাপাশি সুষ্ঠুভাবে প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রত্যাশা এ সরকারের কাছে মানুষের বেশি। আমাদের প্রত্যাশা, প্রকল্পের গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে তা বাস্তবায়নে গতি আনতে হবে।