আবার গত ১৫ বছরে বাংলাদেশে কোনো সরকারি প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শুরু হওয়ার নজিরও খুব কম। কোনো প্রকল্প নির্ধারিত সময়ে শেষও হয়নি। দফায় দফায় সময় বাড়ানো হয়েছে, আর তাতে ব্যয়ও বেড়েছে।
গত সোমবার সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) আয়োজিত দুই দিনব্যাপী ‘অর্থনীতির পুনর্বিন্যাস বিষয়ে টাস্কফোর্সের সুপারিশ’ শীর্ষক সম্মেলনের প্রথম সেশনে বক্তারা বলেছেন, অপ্রয়োজনীয় প্রকল্প ও অর্থপাচার দেশের অর্থনীতির ব্যাপক ক্ষতি করেছে। ব্যাংকিং সেক্টর ও নানা অবকাঠামো নির্মাণে দুর্বৃত্তায়ন হয়েছে।
আগের সরকারের সময় অর্থপাচার হওয়া নিয়ে গুরুতর অভিযোগ ওঠা এবং ব্যাপক আলোচনা হওয়া সত্ত্বেও এই অপরাধ বন্ধ করতে সেই সরকারকে তেমন কোনো পদক্ষেপ নিতে আমরা দেখিনি। গত দেড় দশকে লুটপাটের চরম পর্যায়ে চলে গিয়েছিল বাংলাদেশ। অন্তর্বর্তী সরকার বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার বিষয়টিকে খুবই গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছে।
বিদেশে অর্থপাচার বাংলাদেশের অর্থনীতির অগ্রগতির পথে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক। অর্থনীতিবিদদের মতে, মুদ্রাপাচার বন্ধ করা না গেলে দেশের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড কখনো কাঙ্ক্ষিত গতি পাবে না। উন্নয়ন টেকসই হবে না। আমাদের প্রত্যাশা প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে যে দুর্নীতি হয়েছে, তার বিচার হবে। একই সঙ্গে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ খুব দ্রুত দেশে ফিরিয়ে আনা হবে। অর্থনীতিতে স্থিতিশীলতা আনতে হলে মুদ্রাপাচার রোধে কঠোর হতেই হবে। উন্নয়ন প্রকল্পে লুটপাট বন্ধ করতে হবে।