আয়োজক দেশ হওয়া সত্ত্বেও কোনো ম্যাচ না জিতে চ্যাম্পিয়নস ট্রফির গ্রুপপর্ব থেকেই বাদ পড়েছে পাকিস্তান। দেশটির এমন ব্যর্থতায় একেক পরামর্শ দিচ্ছেন তাদের সাবেক ক্রিকেটাররা। এর মধ্যে একটি অদ্ভূত প্রস্তাবই দিয়ে বসলেন পাকিস্তানের সাবেক ক্রিকেটার ও কোচ মোহাম্মদ হাফিজ।
২০১৭ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিজয়ী দল পাকিস্তানের এবারের টুর্নামেন্টের আগে প্রস্তুতিটাও ভালো হয়নি। ত্রিদেশীয় সিরিজের গ্রুপপর্ব ও ফাইনাল দুইবারই হেরেছে নিউজিল্যান্ডের কাছে। চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতেও নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ভাগ্য ফেরাতে পারেনি পাকিস্তান। টুর্নামেন্টের গ্রুপপর্বে কিউইদের কাছে ৬০ রানে আত্মসমর্পণ করে মোহাম্মদ রিজওয়ানের দল।
বাজে শুরুর পর আর ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি পাকিস্তান। গত ২৩ ফেব্রুয়ারি চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারতের বিপক্ষে উড়ে যায় খড়কুটোর মতো। সেই ম্যাচেই বিদায় প্রায় নিশ্চিত হয়ে যায় আয়োজকদের। গ্রুপে পরের ম্যাচে নিউজিল্যান্ডের কাছে বাংলাদেশ হেরে গেলে শতভাগ নিশ্চিত হয় পাকিস্তানের বিদায়। পরে বাংলাদেশের বিপক্ষে নিয়মরক্ষার ম্যাচ ভেসে যায় বৃষ্টিতে।
আয়োজক হয়েও জয়শূন্য অবস্থায় টুর্নামেন্ট শেষ করায় অনাকাঙ্ক্ষিত একটি রেকর্ড গড়ে ফেলে পাকিস্তান। ২০০২ সালে প্রথমবারের মতো আয়োজিত হয় চ্যাম্পিয়নস ট্রফি। তার পর থেকে ২৩ বছরে হওয়া নয়টি আসরে পাকিস্তানই প্রথম দল, যারা আয়োজক হিসেবে কোনো ম্যাচ জিততে পারেনি।
২০০৬ ও ২০০৯ সালের চ্যাম্পিয়নস ট্রফিতে আয়োজক দুই দল ভারত ও দক্ষিণ আফ্রিকা গ্রুপের তলানির দল হিসেবে টুর্নামেন্ট শেষ করেছিল। তবে সেই টুর্নামেন্টেও নিদেনপক্ষে একটি করে জয় পেয়েছে দল দুইটি।
পাকিস্তান দলের এমন হ-য-ব-র-ল অবস্থায় একের পর এক কোচ, ক্রিকেটার, ম্যানেজমেন্টকে সমালোচনায় বিদ্ধ করছেন সাবেক ক্রিকেটাররা। তবে অন্যদের থেকে একটু আলাদা পরামর্শই দিলেন হাফিজ। বিদেশি কোচ আনার মতো তিনি পরামর্শ দিলেন পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) চেয়ারম্যান বিদেশি কাউকে বানানোর। বলে রাখা ভালো পিসিবির বর্তমান চেয়ারম্যান মহসিন নকভি। সাধারণত এই পদে নির্দিষ্ট দেশের কাউকেই বসানো হয়।
নিজের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্টে সাবেক ক্রিকেটার হাফিজ বলেন, ‘সমাধানের জন্য আমরা ম্যানেজমেন্টের কথা বলেছি, খেলোয়াড়দের কথা বলেছি…দেখুন, আমরা মাঝেমধ্যেই বলি, বিদেশি কোচদের কীভাবে আমাদের দরকার। আমরা মনে করি, তারা ভালো পারফর্ম করে। তাহলে বিদেশি চেয়ারম্যান কেন নয়?’